রায়পুরে হাতের কাছেই কীটনাশক ॥ সংসারে বিরোধ হলে আত্মহত্যা!
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় গত এক বছরে পারিবারিক কলহের কারণে ৫০ জন আত্মহত্যা করেছেন। তাদের মধ্যে ২৮ জন পুরুষ ও ২২ জন নারী। এ সময় আরও দুই শতাধিক আত্মহত্যার চেষ্টাকারী রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। বাজারে কীটনাশকের সহজলভ্যতার কারণে আশঙ্কাজনক হারে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে চলেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
রায়পুর থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ২০১০ সালের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৫০ জন আত্মহত্যা করেছেন। তাদের মধ্যে ৩৮ জন বিষপানে আত্মহত্যা করেন। তবে বেসরকারি হিসাবে আত্মহত্যার সংখ্যা আরও বেশি।
আত্মহত্যার চেষ্টাকারীসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে বখাটেদের উৎপাত, প্রেমে ব্যর্থতা, অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারণ, যৌতুক, পারিবারিক কলহ, দারিদ্র্য ও বেকারত্বই আত্মহত্যার মূল কারণ। ফসলি জমিতে ব্যবহার করার কীটনাশক আত্মহত্যার মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনা বেড়ে চলায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণীরা আত্মহনন করায় তাদের অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই শতাধিক আত্মহত্যার চেষ্টাকারীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের অধিকাংশই কীটনাশক পানকারী। আর তাদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি।
রায়পুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৬৩ জন ডিলারের কীটনাশক বিক্রয়ের লাইসেন্স রয়েছে। আইনে বলা আছে, লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা দোকানির কাছ থেকে কীটনাশক কিনে আত্মহত্যা করলে সব দায়দায়িত্ব তার ওপর বর্তাবে। আইনগতভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে। কিন্তু আইনটির যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় লাইসেন্সবিহীন ব্যবসায়ীরাও কীটনাশক বিক্রি করছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রায়পুরের ২৬টি হাটবাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে কীটনাশক। কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃষক ছাড়াও কীটনাশক বিক্রি করে থাকে। আর এ কীটনাশক দিয়ে সংসারে বিরোধ দেখা দিলেই অনেক তরুণ-তরুণী আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
চর আবাবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, এ অঞ্চলে সচেতনতার অভাবে অনেকেই আত্মহত্যার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ইউনিয়নভিত্তিক সেমিনার বা যত্রতত্র কীটনাশক বিক্রি বন্ধে ব্যবস্থা নিলে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেকটা কমে যাবে। রায়পুর থানার উপপরিদর্শক সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, আত্মহত্যার প্রবণতা রায়পুরে বেশি। এ প্রবণতা রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। |